সবকিছুতেই রাজনীতি করা যেন এক স্বভাবে পরিণত হয়েছে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর। ঠিক যেমনটা তিনি করলেন বালাসোরে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবারকে অর্থ সাহায্য করতে গিয়ে। নবান্নে একটি সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল আর সেখানেই উপস্থিত হয়েছিলেন মালদা বাঁকুড়া মুর্শিদাবাদ সহ বিভিন্ন জেলা থেকে আগত বহু শ্রমিকদের পরিবার। কখনো কেরালা আবার কখনো চেন্নাইতে যারা ছুটে গিয়েছিলেন পরিবারের মুখে দুটো ভাত জোগাড় করতে।
ওই দুর্ঘটনায় কারোর শলিল সমাধি হয়েছে আবার কেউ অথর্ব হয়ে পড়েছেন। তাদের সবাইকে অর্থ সাহায্য এবং অন্যান্য সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। এদিন মঞ্চে বেশ ভারাক্রান্ত অবস্থায় ছিলেন তিনি। কিন্তু বক্তৃতা দিতে গিয়েই বাধলো গোলযোগ। ধরা পড়ে গেল মুখ্যমন্ত্রীর মিথ্যে কথা। একদিকে সঞ্চালিকা প্রথমেই জানিয়ে দিলেন নিহত এবং আহতদের পরিবার মিলিয়ে মোট ৩১ জনকে হোম গার্ডের চাকরি নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হবে আজ । অথচ মুখ্যমন্ত্রী বক্তৃতায় বললেন আজ ৮৬ জনকে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হচ্ছে। যা নিয়ে শুরু হয়েছে চরম বিতর্ক। আবার অন্যদিকে এদিন কোন রাজনৈতিক কথা না বলার প্রতিজ্ঞা নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। অথচ মঞ্চে উঠেই এই দুর্ঘটনার জন্য বিজেপি সরকারকে তুলোধোনা করলেন তিনি। আসল সত্য বিজেপির জন্য উৎখাতিত হবে না বলেও কটাক্ষ করেছেন মমতা।
একইভাবে গোটা রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন পৌরসভায় চলছে ইডি সিবিআইয়ের হানা
সেই নিয়ে এদিন কিছুটা সন্ত্রস্ত দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। তিনি বলে ওঠেন কেন্দ্রীয় সরকার চক্রান্ত করে এসব করছে। বাথরুমে বেডরুমে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়বে এই কেন্দ্রের এজেন্সিগুলো। যদিও তাদের বিরুদ্ধে কিভাবে লড়াই করবেন সেই রণকৌশল এবং স্থির করে দেননি মমতা। অবশ্য মুহূর্তের মধ্যেই চুপ হয়ে যান তিনি। তাতে স্পষ্টতই বোঝা যায় নিজের পায়ে নিজেই কুড়ুল মেরেছেন।

