পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রচারে এ বার নজর কাড়ছে প্রার্থীদের অভিনব জনসংযোগ কৌশল। ভোটারের মন জিততে কেউ ঢুকে পড়ছেন রান্নাঘরে, কেউ বা সেলুনে বসে দাড়ি কেটে দিচ্ছেন সাধারণ মানুষের। এর পাশাপাশি চলছে তীব্র বাক্যবাণ ও রাজনৈতিক পাল্টা আক্রমণ, যা ভোটের আবহকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।
পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ে বিজেপি প্রার্থী রমাপ্রসাদ গিরি ভোটপ্রচারে গিয়ে এক সেলুনে ঢুকে পড়েন। সেখানে এক গ্রাহকের দাড়ি নিজেই কেটে দেন তিনি। এই অভিনব প্রচার ঘিরে এলাকায় চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও প্রার্থীকে ঘিরে দলের অন্দরেই অসন্তোষ দেখা গিয়েছে, তবুও তিনি আশাবাদী শীর্ষ নেতৃত্ব পরিস্থিতি সামলে নেবে।
অন্যদিকে, হুগলির গোঘাটে তৃণমূল প্রার্থী নির্মল মাজি ভোটারের বাড়িতে গিয়ে রান্না করতে দেখা গিয়েছে। বড় কড়াইয়ে খুন্তি নাড়িয়ে, আবার সাধারণ মানুষের সঙ্গে বসে খাওয়াদাওয়া করে ‘আপনজন’ হওয়ার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। একইভাবে আরামবাগে তৃণমূল প্রার্থী মিতা বাগকে দেখা যায় চপের দোকানে দাঁড়িয়ে নিজ হাতে চপ ভাজতে।
মালদহে বিজেপি প্রার্থী গোপালচন্দ্র সাহা নেমে পড়েন আলুর ক্ষেতে। জলকাদা মেখে চাষিদের সঙ্গে আলু তোলার কাজে হাত লাগান তিনি। চাষের ক্ষতির প্রসঙ্গ তুলে কৃষকদের পাশে থাকার বার্তা দেন।
এ দিকে খড়্গপুরে প্রচারে গিয়ে বিজেপি নেতা Dilip Ghosh পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ বিজেপি কর্মীদের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। পাল্টা হুঁশিয়ারির সুরে তিনি জানান, ভয় দেখিয়ে দমানো যাবে না।
সোনারপুর দক্ষিণে বিজেপি প্রার্থী Rupa Ganguly এবং তৃণমূল প্রার্থী Lovely Maitra-র মধ্যে বাকযুদ্ধও নজরে এসেছে। রূপা বলেন, বিজেপি কর্মীরা আর মার খাবে না, প্রয়োজনে পাল্টা জবাব দেবে। এর জবাবে লাভলী মৈত্র বিজেপির বিরুদ্ধে অশান্তি তৈরির অভিযোগ তোলেন।
এদিকে, আইএসএফ চেয়ারম্যান Nausad Siddiqui ২৩ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে বলেন, তাঁদের দল সংশোধনের সুযোগ দিতে চায়। ক্যানিং পূর্বে প্রার্থী হয়েছেন আরাবুল ইসলাম, যাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এ বারের ভোটপ্রচারে যেমন অভিনবত্ব, তেমনই তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত— দুইয়ের মিশ্রণেই জমে উঠেছে বাংলার নির্বাচনী লড়াই।

