পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রার্থী ঘোষণা ঘিরে অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপি। দ্বিতীয় দফার প্রার্থীতালিকা প্রকাশের পর থেকেই দলের অন্দরে ক্ষোভ-বিক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। শনিবার খড়্গপুরে সেই ক্ষোভ চরমে ওঠে, যখন দলেরই একাংশ কর্মী জেলা সদর কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নারায়ণগড় বিধানসভা কেন্দ্র থেকে রামপ্রসাদ গিরিকে প্রার্থী ঘোষণা করার পর থেকেই অসন্তোষ তৈরি হয়। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে খড়্গপুরের কৌশল্যা এলাকায় সদ্য উদ্বোধন হওয়া বিজেপির জেলা কার্যালয়ে। বিক্ষুব্ধ কর্মীরা চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করার পাশাপাশি সিসি ক্যামেরাও নষ্ট করে দেন। তাঁদের সাফ দাবি, অবিলম্বে প্রার্থী বদল করতে হবে।
ঘটনার পর জেলা বিজেপির সভাপতি সুমিত মণ্ডল বলেন, “ঘটনার বিস্তারিত এখনও জানা যায়নি। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলার পরেই সব পরিষ্কার হবে। তবে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল, তা আগে থেকে জানা ছিল না।”
শুধু পশ্চিম মেদিনীপুর নয়, প্রার্থী অসন্তোষে উত্তাল রাজ্যের অন্যান্য জেলাও। হাওড়ার বালি কেন্দ্রেও একই ছবি ধরা পড়েছে। সেখানে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে সঞ্জয় সিংহের নাম ঘোষণার পরেই দলের একাংশ ‘ভূমিপুত্র’ প্রার্থীর দাবিতে সরব হন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, শনিবার বালি, বেলুড় ও লিলুয়া এলাকা থেকে প্রায় ১০০ জন বিজেপি কর্মী-সমর্থক দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। তৃণমূল প্রার্থী কৈলাশ মিশ্রের হাত ধরে তাঁদের যোগদান ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, নদিয়ার রানাঘাটেও উত্তেজনা ছড়ায় বিজেপির জেলা কার্যালয়ে। কয়েকশো কর্মী-সমর্থক কাঁসর-ঘণ্টা বাজিয়ে সেখানে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের দাবি, রানাঘাট উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ কেন্দ্রের প্রার্থী অসীম বিশ্বাসকে বদলাতে হবে। বিক্ষোভের জেরে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
উল্লেখ্য, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই ২৯১টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে। তার পর থেকেই বিভিন্ন দলে টিকিট না পাওয়া নেতা ও কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের অন্তর্দ্বন্দ্ব দলগুলির সংগঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।

