দরজায় কড়া নাড়ছে পঞ্চায়েত নির্বাচন। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই পঞ্চায়েত নির্বাচন আসলে উপলক্ষ লক্ষ্য আগামীর লোকসভা। বিরোধীরা একজোট হয়ে পদ্মফুলকে সরাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।। এদিকে বিরোধীদের মধ্যেই লেগে রয়েছে রাজনৈতিক গোলযোগ। বাংলায় পঞ্চায়েত নির্বাচনে যারা তৃণমূলের প্রতিদ্বন্দ্বি তারাই সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে তৃণমূলের হাত ধরেছে। মমতার সঙ্গে একই সাথে দেখা গিয়েছে রাহুল গান্ধীর সীতা রামকে। আর এই নিয়ে এবার চরম সংকটে পড়েছে সিপিআইএম। সেই সিপিআইএম যাদেরকে হাতে ও ভাতে মেরে এক সময় ক্ষমতায় এসেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তারপর থেকে সিপিআইএম শূন্যে ঠেকেছে। বাংলায় গত বিধানসভা নির্বাচনে অত্যন্ত লজ্জা জনক এবং শোচনীয় হার হয়েছে সিপিআইএমের। তবে জোটের ক্ষেত্রে কি অবস্থান রাখবে তারা মোদিকে হারাতে তারাও তো বদ্ধপরিকর সেক্ষেত্রে কি দিদির হাত ধরবে বামেরা?
কান্নুরে সিপিএমের পার্টি কংগ্রেসের সময় দলের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ কারাট সাংবাদিকদের সামনে জানিয়েছিলেন বাংলা তৃণমূলের কাজকর্ম দেখে কোনভাবেই ওদের সমর্থন করার ইচ্ছা জাগেনা। ওদের মধ্যে কোন গণতান্ত্রিকতা নেই। আর সেই নিয়ে দলের মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন প্রশ্ন। বিজেপির স্বেচ্ছাচারিতা রুখতে তৃণমূলের মতন স্বৈরতান্ত্রিক দলের হাত ধরা যাবে না। আগেই পাটনায় বিভিন্ন বিরোধী শিবির গুলি একজোট হওয়া নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষ করেন শুভেন্দু অধিকারী। এবার তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় খোঁচা দিলেন বিরোধীদের। তিনি বললেন বাংলা নিয়ে কুস্তি আর দিল্লিতে গিয়ে দোস্তি। এই প্রসঙ্গে সিপিআইএমের সীতারাম ইয়ে চুরি অবশ্য সর্বভারতীয় কথাই বলছেন। দেশের গণতান্ত্রিক শক্তি বিঘ্নিত করছে বিজেপি তাই দেশকে বাঁচাতে হলে বিরোধীদের একজোট হওয়াই আসল কর্তব্য বলে মনে করছেন এই বর্ষিয়ান নেতা। কিন্তু নীতিগত দিক থেকে কতটা স্বচ্ছ থাকবে বামেরা? সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃনমুল সুপ্রিমো, বিজেপি এলে গণতন্ত্রের উৎসব আর পালিত হবে না অর্থাৎ ভোট হবে না। দিল্লি এবং কলকাতার রাজনৈতিক সমীকরণ এক নয় বলেই মনে করছেন তারা। কিন্তু মমতা বলছেন প্রেক্ষাপট ভিন্ন হতেই পারে লড়াইটা একই রকম রাখা উচিত। অর্থাৎ দিল্লির অংক কলকাতাতেও কসতে চাইছেন মমতা। কিন্তু মমতার এই সূত্রে কংগ্রেস সিপিএম কেউ রাজি হতে চাইছে না। বাংলায় এক ঘরে রয়েছে বিজেপি তৃণমূল আর অন্য ঘরে তারা জোট করতে রাজি। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম বলছেন ফ্রন্ট বা জোট কোন দিকেই আমরা যাব না
। মানুষের জীবন জীবিকা বাঁচাতে দেশজুড়ে যে লড়াই জরুরী সেটাই করা হচ্ছে। আবার পাটনা থেকে দিল্লিতে গিয়ে শনিবার সিপিএমের বৈঠক করেন সীতারাম। সেই বৈঠকে নাকি স্পষ্ট করে দেওয়া হয় বিরোধী দল এবং তাদের দলের অবস্থান। কোথায় কে কত আসনে লড়াই করবে সেটা তাদের ব্যাপার। আপাতত দেশের স্বার্থে বিজেপিকে হটানোই তাদের মোক্ষম চ্যালেঞ্জ।

