পিতৃপক্ষ শেষ হয়ে মাতৃপক্ষ শুরু হয়েছে আর এই পিতৃপক্ষ ও মাতৃপক্ষের সংযোগের দিনে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে জল এবং তিল তর্পণ করে থাকি আমরা। যাদের শ্রাদ্ধ করা হয়নি তাদের নামেও এদিন আদ্যশ্রাদ্ধ পালন করা যায়। পিতৃ পুরুষদের তর্পণ করবার কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম-বিধি রয়েছে হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী অর্থাৎ প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী এই সময় বংশধরদের হাত থেকে যদি জল এবং খাবার পেয়ে থাকেন পূর্বপুরুষরা তবে তাদের আত্মার শান্তি পায়।
এই অমাবস্যার দিনেই পূর্বপুরুষরা উপর থেকে নেমে আসেন এরপর তারা তর্পণ সংগ্রহ করে আবার উপরে চলে যান। শাস্ত্র অনুযায়ী এই দিন পূর্বপুরুষদের সন্তুষ্ট করতে হয় চলতি বছর ১৪ই অক্টোবর পালিত হয়েছে মহালয়া। তবে এই একটি দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ মহালয়া অমাবস্যা এবং শনিবার। শনিবারে অমাবস্যা তিথি পড়লে তাকে বলা হয় শনি, অমাবস্যা। পিতৃপুরুষদের পাশাপাশি এই দিন যদি শনি ঠাকুরের পূজো দেন তবে তার বিশেষ আশীর্বাদ লাভ করতে পারেন। তাছাড়া যাদের শনির সাড়ে সাতী দশা চলছে তারাও বিশেষ লাভবান হতে পারেন এই দিনে শনির পুজো দিয়ে। আরো নানান অশুভ গোছর থেকে এই দিন মুক্তি পাওয়া যায়। পঞ্জিকা অনুযায়ী শনি অমাবস্যা শুরু হয়েছিল গত ১৩ই অক্টোবর রাত নটা বেজে ৫০ মিনিটে। শেষ হয় ১৪ ই অক্টোবর শনিবার রাত ১১ টা বেজে চব্বিশ মিনিটে। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী এই দিনটির একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সাড়ে সাতি ও ধাইয়ার দশা যাদের চলছে। তারা শনিদেবের অশুভ প্রভাব থেকে মুক্তি পেতে পারেন। এই দিন শনি মন্দিরে কালো তিল এবং সর্ষের তেল দিয়ে যারা পুজো করেছেন এবং ১০৮ বার শনির মন্ত্র জপ করেছেন তারা জীবনে অনেক বড় পূর্ণ করেছেন। কোন অশ্বত্থ গাছের নিচে বসে যারা প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণ করেছেন তারা পিতৃ দোষ থেকে মুক্তি পেয়েছেন। এছাড়া এই দিন ঘিএর প্রদ্বীপ যারা জ্বালিয়েছেন তারা পূর্বপুরুষদের বিশেষ সন্তুষ্টি লাভ করতে পেরেছেন। এই দিন কালো তিল ফুল রেখে তা বটগাছের তলায় নিবেদন যারা করেছেন তাদের পূর্বপুরুষদের যে কোন খারাপ দোষ কেটে গিয়েছে
। এই দিন ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে কোন নদী বা জলাশয়ে স্নান করাই শ্রেয় ছিল। স্নানের পর তামার পাত্রে গঙ্গাজল নিয়ে সূর্য দেবতার উদ্দেশ্যে যারা অর্ঘ্য দান করেছেন তাদের প্রতি বিশেষ সদয় হয়েছেন সূর্যদেব। মনে রাখবেন এসব কিছুই জ্যোতিষ লব্ধ ফলাফল এর সঙ্গে আমাদের চ্যানেল কোন ভাবেই সংযুক্ত নয়

