৫৫০ বছরের প্রতীক্ষার শেষে অবশেষে ঘরে ফিরেছেন রামলালা তবে এই লড়াইটা চলছিল ২০১৯ থেকে। সেই সময় বাবরি মসজিদের বিতর্কিত জমিতে রাম মন্দির তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু কি এমন নথিপত্র পাওয়া গিয়েছিল যার দ্বারা হাজার হাজার বছরের তৈরি মসজিদ ভেঙে দেওয়া হয়। রাম মন্দির তৈরীর জমি তুলে দেওয়া হয়, রাম মন্দির তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের হাতে। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া কিছু রিপোর্ট পেশ করেছিল উচ্চ আদালতে।
আর তার ওপর ভিত্তি করেই এমন বিরাট বচন দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তবে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়াকে মাটির তলায় খনন করবার প্রথম নির্দেশ দিয়েছিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। এরপর একটি বেসরকারি সংস্থা চালায় সেই খনন কার্য। নয়টি সুরঙ্গ কেটে গভীর পর্যন্ত চালানো হয় এই গবেষণা। মাটির তলায় পাওয়া গিয়েছিল বিভিন্ন যুগের স্থাপত্য এবং ছাপ। কুষাণ গুপ্তা এমনকি মুঘল যুগের পর্যন্ত সম্পদ পাওয়া গিয়েছিল এই মাটির তলায়। বহু যুগ যুগ আগে মাটির নিচে ছিল সবকিছু নির্মাণ কার্য। ৫০টি স্তম্ভ ইট দিয়ে তৈরি বালু পাথরের বিভিন্ন খন্ড ইত্যাদি পাওয়া গিয়েছে। বহু হিন্দু দেবদেবীর মূর্তি পাওয়া গিয়েছে। মাটির তলায় ছিল এক আশ্চর্য ভবন যেখানে দেওয়াল কাটা ছিল এমনকি টেরাকোটা ল্যাম্পের হদিশ পাওয়া যায়। পাওয়া যায় রহস্যজনক মানুষের মাথার হাড় এবং খুলি। ত্রয়োদশ শতকে,এই স্থাপত্য শিল্প নির্মাণ করা হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়েছে। সংস্কৃতে কিছু অক্ষর খোদাই করা ছিল তার মধ্যে আমালাকা কপোতাপলি প্রাণালা পদ্মের আকারের আরো কিছু নিদর্শন পাওয়া যায়।
রাম মন্দিরের অতল তলে এমন ভাবেই রক্ষিত রয়েছে এমন হাজারো অখন্ড ইতিহাস। আর সেই ইতিহাসের উপর ভিত্তি করেই ঐতিহাসিক রায় দিয়েছিল সুপ্রিমকোর্ট। বাবরি মসজিদ ভেঙে তৈরি করা হয় রাম মন্দির। শত সহস্র মানুষের রক্ত গিয়েছিল ঝড়ে। আর সেই রক্তের বিনিময়েই এসেছে রাম মন্দিরের এই স্বাধীনতা

