পতঞ্জলির চটকদার বিজ্ঞাপন আর চলবে না। করা হুকুম শীর্ষ আদালতের। হুকুমের নড়চড় হলেই কড়া শাস্তি। যোগগুরু রামদেবের বিজ্ঞাপনে প্রচারের বিরুদ্ধে এবার কঠোর ব্যবস্থা নিল সুপ্রিমকোর্ট। অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে। তাই নয় নানান রকম বিভ্রান্তিকর এবং অতিরঞ্জিত বিজ্ঞাপন দেখানো হয়। এমনটা চলতে থাকলে মোটা টাকা জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে বলে মঙ্গলবার পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন বা আইএমএ এই সংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের করেছিল আদালতে সেই মামলার শুনানিতে এমনটাই জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি আহসান উদ্দিন আমানুল্লাহ এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের একটি দ্বৈত ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের মুখরোচক বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হলে প্রতি বিজ্ঞাপন কিছু ১ কোটি টাকা জরিমানা দিতে হতে পারে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। শীর্ষ আদালতের এই রায় রামদেবের জন্য যথেষ্ট চিন্তার বিষয় বলেও মনে করছে একাংশ মহল। বিজেপি শাসিত সরকারের অত্যন্ত পছন্দের ব্যক্তি বলেই রামদেবকে চেনেন সকলে এমনকি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার সম্পর্ক বেশ ভালো। তারই মাঝে শীর্ষ আদালতের এই রায় তার ভাবমূর্তি যে অনেকটা নষ্ট করেছে তা বলাই বাহুল্য। করোনা ভাইরাস যখন জাকিয়ে বসেছিল গোটা বিশ্বে ঠিক সেই সময় এর প্রতিরোধী করোমিল কিট বিক্রি করে প্রায় আড়াইশো কোটি টাকার বেশি লাভ করেছিল এই সংস্থা বলে জানা যায়। কিন্তু নামেই এটি ছিল ভাইরাস প্রতিরোধী আসলে এর কার্যক্ষমতা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। এইভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপরাধ অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ বলে বিবেচনা করা হয়। শাশাড়ি বরি নামের একটি ট্যাবলেট বাজারে এনেছিল রামদেবের এই কোম্পানি
। এছাড়া অনতৈল নামে কুড়ি মিলিমিটারের একটি তেলের শিশির দাম রাখা হয়েছিল ৫৪৫ টাকা। এখনো পর্যন্ত প্রায় ২৩ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকার এই কিট ও তেল বিক্রি হয়েছে বলে জানা যায়। তারপর থেকেই তদন্তে নামে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ। গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারনার অভিযোগে পতঞ্জলির বিরুদ্ধে সোজা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয় মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন এবং এনআইএ।

