।শাসকদলের ভীত যে নড়ে গিয়েছে তা আগেই প্রমাণিত হয়েছে। তার জন্যই পঞ্চায়েত ভোটে নিজেদের আসনগুলো ধরে রাখতে যেন তেন প্রকারে নেমে পড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অথচ খেলা যে শুরু হয়ে গিয়েছে তা বলাই বাহুল্য অন্তত আজকের খেলার পর থেকে সেটাই বুঝতে পারছেন রাজ্যের মানুষ। আসলে আজ সকাল থেকেই নদিয়া এবং উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিভিন্ন পৌরসভা এলাকায় হানা দিয়েছে সিবিআই ও ইডি। কোমর বেঁধে এখনো পর্যন্ত চলছে তল্লাশি এবং জিজ্ঞাসা বাদ। সুপ্রিম কোর্ট থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে পৌরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে সব রকম ভাবে ছাড়পত্র পাবে কেন্দ্রীয় এজেন্সি।
সেই মতো সকাল থেকেই আটঘাট বেঁধে, মাঠে নেমে পড়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এদিকে কেন্দ্রীয় সংস্থার এই তোড়জোড়ের পরেই কার্যত কপালে চিন্তার ভাজ পড়েছে রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের। রীতিমতো তিনি ক্যামেরার সামনে তার সেই উদ্বিগ্নতার কথা প্রকাশ করেছেন। ঠিক কি বলেছেন ফিরহাদ? তিনি জানিয়েছেন ভয়টা অন্য জায়গায় আসলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করবার জন্য বিজেপি এই কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে কাজে লাগাচ্ছে! পঞ্চায়েত ভোটের সন্ত্রাস তৈরি করতে চাইছে বিজেপি তাই ভাতে মারার চেষ্টা করা হচ্ছে! এটা পুরোপুরি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র এমনটাই নিশ্চিত ববি। অন্যদিকে দুর্নীতি থেকে মানুষের চোখ ঘোরাতে ইতিমধ্যেই ওড়িশায় পৌঁছে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী । বারবার তিনি যাচ্ছেন পার্শ্ববর্তী রাজ্যে। বলা বাহুল্য করমন্ডল এক্সপ্রেসে মৃত শ্রমিকদের নিয়ে রাজনীতি করছেন তিনি। টাকার লোভ দেখিয়ে মানুষের মন পেতে চাইছেন মমতা। অন্যদিকে তার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শুরু করে দিয়েছেন জনমত গঠনের প্রক্রিয়া। সবমিলিয়ে খেলা যে তাদের স্রোতের বিপরীতে যাচ্ছে সেটা যেন আগে থেকেই টের পেয়ে গিয়েছেন মমতা অভিষেক এবং তার গোটা দল। একদিকে কয়লা এবং গরু পাচার অন্যদিকে পৌরসভার নিয়োগ দুর্নীতি সবমিলিয়ে বাংলায় বেশ জাকিয়ে বসতে চলেছে ইডি সিবিআই। আগুনে আরো ঘি ঢালতে ইডির আধিকারিক সঞ্জয় মিশ্র আগেই কলকাতায় এসেছেন তিনি শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আগামীকাল সিজিও কমপ্লেক্স আসছেন রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তাকে কয়লা পাচার দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন করা হবে ইতিমধ্যে ১০০ পাতার একটি প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। একটা প্রশ্নের উত্তর দিতেও যদি কোন ইতস্তত বোধ করেন রুজীরা তবে তার কপালে নাচছে শনি। ওড়িশায় করমন্ডল এক্সপ্রেস দুর্ঘটনা নিয়ে সিবিআই তদন্ত্ত থেকে ধিক্কার দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি জানিয়েছেন ওরা আবার কি তদন্ত করবে।
আসল সত্য ধামাচাপা পড়ে থাকবে। একইভাবে মমতার দাবী বাংলায় তো পৌরসভা কোন দিন বাথরুমের মধ্যেও সিবিআই ঢুকিয়ে দেবে। অর্থাৎ এখন মমতার হাতিয়ার কেবলমাত্র আক্রমণ। আর সেটা দিয়েই কি তিনি এবারের যুদ্ধ জয় করে আসতে পারেন সেটাই দেখার

