ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিরোধীদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল। কোন কোন বুথে খাতা খুলতে পারেনি বিরোধীরা। নিজেদের আধিপত্য কায়েম করে মমতার সরকার দেখিয়ে দিয়েছে দুর্নীতিকে হাতিয়ার করে জেতা এত সহজ নয়। যদিও বিরোধীরা দাবি করছে এটা ভোট হয়নি হয়েছে প্রহসন। দুর্নীতি করে জিততে পেরেছেন মমতা। কিন্তু যে মমতার উন্নয়নকে কান্ডারী করে এগিয়ে গিয়েছে বাংলার ভোট বৈতরণী।
সেই মমতার মামা বাড়ির বুথে কিনা দেখা নেই তৃণমূল কংগ্রেসের। ছোটবেলায় বীরভূমের কুসুম্বা গ্রামে তার বেড়ে ওঠা। বারবার নিজের মামা বাড়ির কথা স্মরণ করেছেন মমতা। এমনকি ছুটেও গিয়েছিলেন একাধিকবার। শুধু তাই নয় নবজোয়ার কর্মসূচিতে বীরভূমে গিয়ে আগেই নিজের বাবার মামার বাড়িতে ছুটে গিয়েছিলেন অভিষেক। সেখানে গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে পঞ্চায়েত সমিতি সব জায়গায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে বিজেপি। কুসুম্বা গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩১ নম্বর বুথে ভোটার মমতার মামা অনিল মুখোপাধ্যায় এবং তার পরিবার। সেখানে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন অর্চনা হাজরা। তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন সাথী লেট। আর এই বুথ থেকে জয়লাভ করেছেন বিজেপি প্রার্থী। কিন্তু কোন ম্যাজিকে তৃণমূলকে ধরাশায়ী করলেন তিনি। অর্চনা জানিয়েছেন আর কিছুই নয় তৃণমূলের দুর্নীতির কথা মানুষের কাছে তুলে ধরেছিলাম আর তাতেই মানুষ আমায় ভোট দিয়েছে। মানুষ আমাকে আশীর্বাদ করেছেন। আমার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল কুসুম্বা গ্রাম কারণ এটা মুখ্যমন্ত্রীর নিজের ছেলেবেলার স্মৃতি বিজড়িত গ্রাম
তার স্বামী এই গ্রামের ৩২ নম্বর বুথ থেকে জয়ী বিজেপি প্রার্থী গঙ্গাধর হাজরা। তিনি হারিয়েছেন তার নিকটতম তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিদ্বন্দ্বী, গৌতম লেটকে। এদিকে কয়েক ঘন্টা আগেই বর্ধমানের বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে ঝাঁপ দিয়েছেন এক সিপিআইএম প্রার্থী। তবে কি উন্নয়নের জোয়ারে ভাসতে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই তৃণমূলে যাওয়ার কোন চিন্তা ভাবনা করছেন? স্বামী স্ত্রী একযোগে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে জানালেন প্রশ্নই ওঠে না!

