দেশের অন্যতম কঠিন একটি পরীক্ষা হলো ইউপিএসসি। প্রতি বছর কোটি কোটি ছেলেমেয়েরা এই পরীক্ষায় বসলেও পরীক্ষায় পাশ করা সহজ কথা নয়। কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য অধ্যবসায়ের মধ্য দিয়ে এই পরীক্ষায় পাশ করা সম্ভব। কেউ কেউ পাঁচবার কেউ আবার তিনবার এই পরীক্ষায় বসে উত্তীর্ণ হন। আর্থিক এবং মানসিক স্বচ্ছতা থাকলে অবশ্য এই পরীক্ষায় পাশ করতে খুব একটা বেগ পেতে হয় না কিন্তু অনেকেই রয়েছেন যারা অনেক প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে এই পরীক্ষায় পাস করেন। প্রত্যন্ত একটি রাজ্য রাজস্থান এখানে এখনো অনেক জেলায় শিক্ষার আলো পৌঁছয়নি।
এই রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকা বাপি গ্রামের বাসিন্দা, রামভজন কুম হারা। মাকে নিয়ে শুরু হয়েছিল তার জীবনের সংগ্রাম। তার চোখে ছিল এক ঝাঁক স্বপ্ন কিন্তু সেগুলি পূরণ করবার মতন ক্ষমতা ছিল না রাম ভোজনের কারণ বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল দারিদ্রতা। অমানবিক পরিশ্রমের ফসল হিসেবে আজ তিনি ইউপিএসসি পাশ করে আইএএস অফিসার হয়েছেন। ইউপিএসসিতে ৬৬৭ র্যাংক করেছেন তিনি। কিভাবে নিজের না হেরে জিতে যাওয়া যায় সেটার প্রমাণ করে দিয়েছেন তিনি। তার পেশা ছাগল প্রতিপালন এবং ছাগলের দুধ বিক্রি করা। করোনা অতিমারীর সময় তার বাবার মৃত্যু হয় তারপর থেকে যেন চোখে অন্ধকার নেমে আসে তার এবং তার মায়ের। কি করবেন কিছুই বুঝে উঠতে পারেননি তারা। বাবার কাজটাই নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন রামভজন প্রতিদিন প্রায় ২৫ কার্টুন ইট ছড়াতেন। তার জন্য তিনি পেতেন দিনে ১০ থেকে ১২ টাকা। ঘন্টার পর ঘন্টা পাথর ভাঙতেন তিনি আর তার মা সেই পাথরগুলো কুড়োতেন। প্রথম পরীক্ষায় পাশ করে দিল্লী পুলিশের কনস্টেবল পদে যোগ দিয়েছিলেন রামভজন তখন একটু একটু করে তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা বদলাতে শুরু করে তারপর ইউপিএসসি প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেন তিনি।
সাত সাত বার পরীক্ষা দিয়েছেন কিন্তু সাফল্য আসেনি। অষ্টম বারের প্রচেষ্টায় তিনি কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ করেছেন। এতবার পরীক্ষা দিয়েও নিজেকে হতাশার কেন্দ্রে নামিয়ে আনেননি এই যুবক।।বরং তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন ইচ্ছে থাকলেই উপায় হয়।

