এবার শ্রীলঙ্কা এবং ভারতবর্ষের সম্পর্ক হতে চলেছে আরো মজবুত। জল পথে যুক্ত হতে চলেছে শ্রীলংকা তবে নদীতে নয় এবার শ্রীলঙ্কা এবং ভারতে যুক্ত হবে সমুদ্রে। শ্রীলঙ্কা এবং ভারতের এই যোগাযোগের সম্পর্ক আজকের নয় মনে করা হয় সত্য যুগে রামায়ণের সময়কালে শ্রীলংকা ও ভারত ছিল অখন্ড দেশ। রামায়ণের স্বত্বাধিকার নিয়ে দুই দেশের মধ্যে অবশ্য কম বিবাদ হয়নি
। কিন্তু এবার আর কোন বিবাদ নয় ১২ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এক দারুণ সুযোগ নিয়ে এসেছে দুই দেশ
জল পথে দুই দেশ জুড়ে যাবে সময় লাগবে মাত্র তিন ঘন্টা। চেড়িয়াপানির মধ্য দিয়ে শ্রীলঙ্কা এবং ভারত বর্ষ আবার দুজনে এক হয়ে যাবে। তামিলনাড়ুর নাগাপট্টামন থেকে শ্রীলংকার জাহানা একসাথে যুক্ত হবে। মাত্র তিন ঘন্টার হবে এই যাত্রা এখানে ১৫০ জন ভ্রমণ করতে পারবেন এবং ৪০ কেজি পর্যন্ত পণ্য নিয়ে যাওয়া যাবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। ভারতবর্ষ এবং শ্রীলংকার ঐতিহ্য সাংস্কৃতি এবং স্থাপত্য আবারও মিলেমিশে একাকার হয়ে যাবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে আজ থেকে প্রায় ১২ বছর আগে ২০১১ সালে শ্রীলংকা ও ভারতবর্ষের মধ্যে এক জলচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল কিন্তু নানান জটিলতার কারণে তা আর সম্ভবপর হয়ে ওঠেনি। ১৯৮২ সালে শ্রীলংকার গৃহযুদ্ধ শুরু হতেই ভারত এবং শ্রীলংকার মধ্যে জলপথে বাণিজ্য বন্ধ হয়। তারপর এতগুলো বছর কাটিয়ে অবশেষে মোদি ম্যাজিকে আবার এক হয়ে যেতে চলেছে শ্রীলংকা এবং ভারত। একদিকে যেমন দুই দেশের তীর্থক্ষেত্র গুলি ভ্রমণ করাবে এই যাত্রা অন্যদিকে দুই দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য চেটেপুটে উপভোগ করতে পারবেন যাত্রীরা। তবে এর ফলে কি কিছুটা চাপে পড়তে পারে চিন? শ্রীলংকার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রাজাপক্ষের আমলে চীনের সঙ্গে বেশ ভালই সুসম্পর্ক ছিল ওই দ্বীপ রাষ্ট্রের। কিন্তু ধীরে ধীরে এত বেশি পরিমাণে চীন শ্রীলংকার উপরে ঋণের বোঝা বাড়াতে থাকে যে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হতে শুরু করে
। এরপর কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয় শ্রীলঙ্কাকে ক্ষমতায় আসেন রণিল বিক্রম সিংহ। চলতি বছর জুলাই মাসে ভারতবর্ষে আসেন তিনি তখন এই জল চুক্তি নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয় মোদির সঙ্গে। আর তার কয়েক মাসের মধ্যেই এই বড় প্রতিশ্রুতি দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশকে উপহার দিচ্ছে ভারত।

