নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রাসাদের পাশে মতিঝিলের কথা তো সবাই শুনেছেন। মতির মতন স্বচ্ছ এই ঝিলের জল। এই ঝিল ছিল বেগম ঘষেটির অত্যন্ত প্রিয়। এই ঝিলকে কেন্দ্র করে হাজারদুয়ারির সৌন্দর্যায়ন সম্পন্ন হয়। বর্তমানে জাতীয় হেরিটেজের তকমা অর্জন করেছে এই ঝিল। একে কেন্দ্র করে জড়িয়ে রয়েছে হাজার হাজার বছরের ইতিহাস। মুর্শিদাবাদ মানেই নবাবের জেলা এখানে নবাবীয়ানা এখনো বজায় রয়েছে। যদিও এখন আর নবাব কিংবা সুলতান নেই তবে তাদের বংশধরেরা প্রাচীন সেই পরম্পরাকে আজও জীবিত করে নিয়ে চলেছেন।। শীত গ্রীষ্ম হোক কিংবা বর্শা যেকোনো সময় পর্যটকরা মুর্শিদাবাদে ইতিহাসের টানে ছুটে আসেন। ইতিহাসের এমন অনেক পাতা রয়েছে যেগুলো এখনো পর্যন্ত খুলে দেখাই হয়নি। কালের নিয়মে সেগুলি কেবল ধ্বংস হয়ে পড়ে রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হল হীরা ঝিল্
। এর পাশেই রয়েছে বাঁশবাগান। কয়েকটা ইট দিয়ে তৈরি করা স্থাপত্য আর তার সামনে দিয়েই বয়ে চলেছে হিরাঝিল। ১৭৫২ সালে নবাব আলীবর্দী খান তার নাতি সিরাজউদ্দৌলার জন্য মতিঝিল প্রাসাদের মতন ভাগীরথীর পশ্চিম দিকে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করে দেন । প্রাণপ্রিয় নাতি ওই প্রাসাদেই তার জীবন অতিবাহিত করবেন বলে জানান নবাব আলীবর্দী খান। নবাব সিরাজউদ্দৌলার উপাধি মানসুরুল মুলুক অনুসারে এই প্রাসাদের নামকরণ করা হয়েছিল মনসুরগঞ্জ। আর এই প্রাসাদের পাশেই ছিল এক বিরাট স্বচ্ছ ঝিল যার নাম করা হয় হিরাঝিল। ঝিলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল প্রাসাদ তাই এটির নাম হিরাঝিল প্রাসাদ । এর জল ছিল স্বচ্ছ মুক্তার মতন পরিষ্কার। পলাশীর যুদ্ধের শেষে নবাব মীরজাফর আলী খান এই প্রাসাদ ব্যবহার করেছিলেন এরপর যুদ্ধ শেষ হয়ে ভারতের পরাজয় হলে ইংরেজরা এই প্রাসাদ ধ্বংস করে দেন। তারপর কালের নিয়মে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছিল এই প্রাসাদ তবে ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ফিরতে থাকে এই হিরাঝিলের কথা। প্রাসাদ সংরক্ষণের জন্য কম কাঠ খড় পোড়াতে হয়নি।
দীর্ঘ আন্দোলন চললেও সরকারিভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা হয়নি। তবে এবার নড়ে চড়ে বসেছ হিরাঝিল বাচাও কমিটি। তাদের উদ্যোগেই তৈরি করা হয়েছে বাগান যেখানে প্রতিনিয়ত আসছেন পর্যটকরা ইতিহাসের সন্ধানে। এই হিরাঝিল প্রাচীর কালের নিয়মে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েও ঐতিহাসিক বিবরণ যেভাবে সংগ্রহ করে রেখেছে তা সত্যিই তাৎপর্যপূর্ণ।

