আবারো ভরা মঞ্চে বেফাঁস কথা বলে ফেললেন তৃণমূলের মন্ত্রী। আমরা চোর। চারিদিকে দুর্নীতি আর পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগেই এমন কথা বলায় রীতিমতো অস্বস্তিতে তৃণমূল দল। প্রসঙ্গত গত বছরের জুলাই মাস থেকেই তৃণমূল নেতা মন্ত্রীদের চুরির এই তালিকা সামনে এসেছে। রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে এখন জেল খাটছেন। শুধু কি তাই তারপর কয়লা কাণ্ড ও গরু চুরি কাণ্ডে নাম জড়িয়ে গিয়েছে আরেক দাপুটে নেতার। এই কেষ্ট মন্ডল এখন বীরভূম থেকে অনেক দূরে তিহার জেলে রয়েছেন
। নানান বিধায়ক ও মন্ত্রী বর্তমানে জেলে রয়েছেন। তালিকাটা বেশ লম্বা। আর এরই মধ্যে বহু তৃণমূল নেতা মন্ত্রী সাংসদদের নাম জড়িয়ে পড়তে চলেছে সন্দেহের তালিকায়। বিরোধীরা থেকে সাধারণ মানুষ চোর চোর বলে কটাক্ষ করছে বর্তমান শাসক দলকে। যদিও ড্যামেজ কন্ট্রোল করবার চেষ্টা করছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী থেকে শাসকদলের নেতা-মন্ত্রীরা। তা সত্ত্বেও যেন তাদের তকমা কিছুতেই মোছা যাচ্ছে না। এবার নিজের মতন করে এই চুরি কাণ্ডের ব্যাখ্যা দিয়েছেন রাজ্যে বিদ্যুৎ মন্ত্রী। সোমবার হুগলিতে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে একটি প্রচারে অংশগ্রহণ করেন অরূপ বিশ্বাস। সেখানে সকালবেলা কামারপুকুর সিনেমা তলায় হঠাৎ করে এই পথসভা থেকে এক আজব দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন বিরোধীরা বলছে আমরা চোর আমি বলছি হ্যাঁ আমরা চোর। কিন্তু আমরা কয়লা গরু এসব চুরির সঙ্গে জড়িত নই বরং আমরা মানুষের মন চুরির সঙ্গে জড়িত। আমরা উন্নয়ন করে মানুষের মন চুরি করেছি বলে দাবি করেন তিনি। আর তার এই বক্তব্যের পরেই হাততালিতে ফেটে পড়ে গোটা সভা। তিনি আরো বলেছেন সিপিআইএম বিজেপি কংগ্রেসের অপপ্রচার কুৎসার বিরুদ্ধে আমরা একজোট হয়ে লড়াই করছি এই বাংলায়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে রাজ্যের উন্নয়নের কথা আমরা তুলে ধরছি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা মত।
একদিকে যখন বারবার চোর স্লোগানের মুখে পড়ছে তৃণমূল নেতারা সেই সময় তারা মাথা ঠান্ডা করে মানুষের মন চুরি করার চেষ্টা করছেন। আর বিদ্যুৎ মন্ত্রীর এই মন্তব্যকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নয়া বিতর্ক। বিজেপির বিধায়ক বিশ্বনাথ কারক জানিয়েছেন, তৃণমূলের চুরি এখন রাজ্যবাসীর কাছে জলের মতন পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।নাটক করা কথা বলে মানুষকে আর দমানো যাবে না।

