Sunday, May 24, 2026
আরও
    Homeদেশমালদহ কান্ডে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য! এবার দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ...

    মালদহ কান্ডে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য! এবার দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ তৃণমূলের

    সাংবাদিক বৈঠকে দিল্লির নির্যাতিত সাজনুর সহ কুনাল ঘোষ ও ফিরহাদ হাকিম

    দিল্লিতে বসবাসকারী বাংলাভাষী এক পরিযায়ী শ্রমিকের স্ত্রী ও শিশুর ওপর দিল্লি পুলিশের বর্বরতার অভিযোগ আগেই তুলে ধরেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার এই ঘটনায় চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য উঠে এসেছে, যা জানিয়েছে ওই পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবার। এই বিষয়ে বুধবার তৃণমূল ভবনের সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল মুখপাত্র কুনাল ঘোষ জানান, দিল্লি পুলিশ এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবার।

    প্রসঙ্গত এদিন সাংবাদিক বৈঠকে কুনাল ঘোষ বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি ভিডিও পোস্ট করে বাংলাভাষী ওই পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের ওপর পুলিশি বর্বরতার অভিযোগ করে প্রতিবাদ জানালে, ওই নির্যাতিত পরিবারের মুখ বন্ধ করে দেবার চেষ্টা করা হয়। এমনকি পরিযায়ী শ্রমিক এর স্ত্রী ও সন্তানকে মারধোর করা হয়। এছাড়া পরিচয় শ্রমিকের স্ত্রীকে আটকে রেখে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করা হয়। নির্যাতিত পরিবার জানায় তারা মালদহের বাসিন্দা। তবে দিল্লি পুলিশ বলেন বাংলা মানেই বাংলাদেশী, আর সেই কারণে রেহাই পায়নি ওই বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবার।

    অন্যদিকে এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, দিল্লী পুলিশ ওই শিশুটির কানপাটিতে চড় মেরেছে। তার ওপর অত্যাচারের বর্ণনা শুনে তাদের গা শিউরে উঠছে। এছাড়া এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নির্যাতিত ওই পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারও। নির্যাতিত ওই পরিযায়ী শ্রমিকের নাম মোক্তার খান। বাড়ি মালদহের চাঁচলে। এবং তার স্ত্রীর নাম সাজনুর। এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মোক্তার খান ও তার স্ত্রী এবং সন্তান।

    এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে নির্যাতিতা সাজনুর বলেন, তাদের বাড়ি আসে চারজন পুলিশ। তারপর তাদের আধার কার্ড দেখতে চাই এবং তিনি বলেন তার স্বামী কাজে গেছে। পরদিন ফের পুলিশ আসে এবং তাদের মধ্যে থাকে দুজন মহিলা পুলিশ। তারপরই তাকে তুলে নিয়ে যায়। সাজনুর বলেন, তাকে জোর করে জয় শ্রীরাম বলতে বলা হয়। তবে তিনি মুসলমান তাই তিনি জয় শ্রীরাম বলবো না বললে তার পেটে লাথি মারা হয়। এমনকি তার সন্তানকেও মারধর করা হয়। তারপর পঁচিশ হাজার টাকা দিলে ছেড়ে দেবে বললে, বাধ্য হয়ে সাজনুর তার স্বামীর ফোন নাম্বার দেয়। টাকা দেওয়া হলে তবেই তাকে ছাড়া হয়।

    এছাড়া ফোন নিয়ে নেওয়া হয় এবং থানায় নানান সাদা কাগজে জোর করে সই করানো হয় বলে জানান নির্যাতিত সাজানুর। তাদের বাংলাদেশি তকমা দেওয়া হয়। তৃণমূলের সহযোগিতায় বাংলায় ফিরতে পেরে স্বস্তিতে ওই নির্যাতিত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবার। দিল্লির এই ঘটনার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতেই বিজেপি এবং দিল্লী পুলিশের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয় শাসকদলের পক্ষ থেকে। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন ওই নির্যাতিত পরিবারের ভরণ পোষণের দায়িত্ব তারা গ্রহণ করবে। বর্তমানে মালদহ কাণ্ড ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চড়ছে পারদ!

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    সর্বশেষ খবর

    মন্তব্য