হাওড়া ব্রিজ ,নানান ইতিহাসের সাক্ষী নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে এই হাওড়া ব্রিজ। ইংরেজ আমলের তৈরি অন্যতম কঠিন স্থাপত্য হিসেবে ধরে নেওয়া হয় এটিকে। বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন যে যে ভালো কিছু ইংরেজরা ভারতবর্ষকে উপহার দিয়ে গিয়েছেন তার মধ্যে অন্যতম এই হাওড়া ব্রিজ। হাওড়া জেলায় হুগলি নদীর উপরে তৎকালীন সময় ২২ লক্ষ টাকা খরচ করে এই ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। এই হাওড়া ব্রিজের কাঠামো থেকে এর নকশা সবকিছুই ইংরেজদের মস্তিষ্কপ্রসূত। নির্মাণের পর মাত্র কয়েকবার সংস্কার করা হয় এই হাওড়া ব্রিজ। এই সেতু হাওড়ার সঙ্গে কলকাতা শহরকে যুক্ত করেছে। তবে এই ব্রিজ সম্পর্কে এমন অনেক অজানা কথা রয়েছে যা কেউ জানে না। হাওড়া ব্রিজ সব সময় চলন্ত কখনো এর ছুটি নেই। কিন্তু আপনি কি জানেন প্রতিদিন এই হাওড়া ব্রীজ একটা নির্দিষ্ট সময় বন্ধ থাকে। দুপুর এবং রাত বারোটার সময় কয়েক মিনিটের জন্য সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায় হাওড়া ব্রিজ তখন যেন স্তগ্ধ হয়ে যায় গোটা কলকাতার ইতিহাস।
এর পিছনে রয়েছে এক বিশেষ কারণ। হাওড়া সেতু একটি ঝুলন্ত সেতু বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ সেতুগুলির মধ্যে একটি হলো এটি। একটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে এই হাওড়া সেতু ২৮০ ফুটের বেশি উঁচু স্তম্ভ যা বিশাল কংক্রিট ও ইট পাথর দ্বারা নির্মাণ করা হয়েছে। দুটি পিলারের মধ্যে দুরত্ব ১৫০০ ফুট। এই হাওড়া ব্রিজের উপর যদি অতিরিক্ত ওজন বহন করা যায় তবে যেকোনো সময় এই পিলার দুটি সরে যেতে পারে আর তখনই ঘটে যেতে পারে প্রলয়। ইংরেজদের আমলে যখন এই ব্রিজ বানানো হয়েছিল তখন ইঞ্জিনিয়াররা আশা করেছিলেন ২৫ হাজার টনের বেশি ওজন নিতে পারবে না এই দুই দিকে থাকা স্তম্ভ। যেকোনো সময় এই ব্রিজ ভেঙে পড়তে পারে হয় দুপুর বারোটা নয় রাত বারোটা। সেই কথা মেনে দুপুর এবং রাত বারোটার সময় তিন চার মিনিটের জন্য সমস্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যদিও জানলে আশ্চর্য হবেন এই বিশ্বাসের কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
কেবলমাত্র বিশ্বাস মেনে এই কাজটি করা হয় প্রতিনিয়ত এই ব্রিজের দেখভাল করা হয় কিন্তু তা সত্ত্বেও ব্রিজের নানান খুঁটিনাটি অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। বিভিন্ন কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এই ঐতিহাসিক সেতু। প্রতিবছরের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য খরচ করা হয় ৬৫ লক্ষ টাকা। সাধারণ মানুষের বিশ্বাস এই বীজ কোনদিন ভেঙে পড়বে না বারোটার সময় বন্ধ রাখা আসলে একটা ট্রিক্স। যাতে ওই দুটি সময়ের জন্য ব্রিজটা একটু বিশ্রাম নিতে পারে।

